ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত ৪৫ দিনে ২৩টিরও বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিক অপসারণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর। তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার অধিকাংশই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে সংঘটিত হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, অনুমোদনহীন স্থাপনা অপসারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকেও একই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, কয়েকটি মসজিদ ও দরগাহ বহু বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। হঠাৎ উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এসব ঘটনাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, আইন প্রয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা দেখানো হয়নি। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এসব পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, অনুমোদনহীন নির্মাণ অপসারণ এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত দেড় মাসে বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে এমন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠন এবং সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
এসব ঘটনাকে ঘিরে ভারতে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একপক্ষ প্রশাসনের আইন প্রয়োগ ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যপক্ষ ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্ন তুলছে। ফলে বিষয়টি দেশটির জনপরিসরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর







