প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় আজ বুধবার রাত ১০ টা থেকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার সময়সূচি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত হলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে দেশটির পবিত্র শহর মাশহাদ-এ দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরই তাঁর জন্মস্থান।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। তবে দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্স-এ তাঁর বাবার সমাধিও রয়েছে।
দাফনের আগে রাজধানী তেহরান-এ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে অনুষ্ঠানসূচির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তেহরানে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রোববার ভোরে জানায়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই দাবি করেছিলেন।
১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন খামেনি। এর আগে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-এর নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
প্রায় ৩৭ বছরের শাসনামলে তিনি নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। বিশেষ করে ইরানি রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনকে কেন্দ্র করে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের দাবিও জানান।







