ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি দিকের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। আত্মিক উন্নতির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনের প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও হাদিসে এমন কয়েকটি খেলাধুলা ও শারীরিক অনুশীলনের কথা পাওয়া যায়, যা মুসলমানদের জন্য উপকারী এবং প্রশংসনীয় বলে বিবেচিত।
তীরন্দাজি তীরন্দাজি ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে আত্মরক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের তীর নিক্ষেপের অনুশীলনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা তীর নিক্ষেপ করো এবং অশ্বারোহণ করো; তবে তীর নিক্ষেপই আমার কাছে অধিক প্রিয়।” (সহিহ মুসলিম: ১৯১৮)
ঘোড়দৌড় ও অশ্বারোহণ ঘোড়া ছিল সে সময়ের প্রধান বাহন এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির অন্যতম মাধ্যম। মহানবী (সা.) নিজেও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন এবং এতে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোড়াগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেছিলেন। (সহিহ বুখারি: ২৮৭০)
সাঁতার সাঁতার একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা এবং শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। ইসলাম উপকারী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণে উৎসাহ দেয়। হাদিসে সাঁতার শিক্ষাকে কল্যাণকর কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (সুনানে নাসাঈ: ৮৯৪০)
দৌড় প্রতিযোগিতা দৌড় শরীরচর্চার একটি সহজ ও কার্যকর মাধ্যম। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ: ২৫৭৮) এ ঘটনা বৈধ বিনোদন ও শারীরিক চর্চার প্রতি ইসলামের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে।
মল্লযুদ্ধ বা কুস্তি কুস্তি শক্তি, সহনশীলতা এবং আত্মরক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়, মহানবী (সা.) মক্কার বিখ্যাত মল্লযোদ্ধা রুকানার সঙ্গে কুস্তি করে বিজয়ী হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।” (সহিহ মুসলিম: ২৬৬৪)
লক্ষ্যভেদ অনুশীলন যেসব অনুশীলন মানুষের মনোযোগ, একাগ্রতা ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ইসলাম সেগুলোকে উৎসাহিত করেছে। লক্ষ্যভেদ, অস্ত্রচর্চা এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এর অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “একটি তীরের কারণে আল্লাহ তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন—তীর প্রস্তুতকারী, তীর নিক্ষেপকারী এবং তাকে সহযোগিতাকারীকে।” (জামে তিরমিজি: ১৬৩৭)
ইসলামের দৃষ্টিতে খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং এটি শারীরিক সক্ষমতা, আত্মরক্ষা, শৃঙ্খলা, মনোযোগ ও মানসিক দৃঢ়তা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই কল্যাণকর ও উপকারী খেলাধুলার প্রতি ইসলাম ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে এবং মুসলমানদের সেগুলো চর্চার প্রতি উৎসাহিত করে।