খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে জনগণ বিএনপিকেও প্রত্যাখ্যান করবে: শিবির সভাপতি
গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলন করলেও বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের মতোই স্বৈরাচারী ও সহিংস রাজনীতির পথে হাঁটছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের রাজনীতি অব্যাহত থাকলে জনগণ বিএনপিকেও প্রত্যাখ্যান করবে।
রোববার রাত সাড়ে ৯টায় ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধায় সাইফুল্লাহর ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। তিনি এ ঘটনার জন্য বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে ঘটনার নিন্দা জানান এবং দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় ছাত্রসমাজকে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অতীতের আওয়ামী লীগের শাসনামলের মিল রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বিএনপি ও প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দেশের বিভিন্ন খাতে প্রভাব বিস্তার ও দখলদারিত্বের রাজনীতি করছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
ছাত্রশিবিরের অতীত ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় তাদের ৩২ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি সাইফুল্লাহ হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু মুসা, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে নেতারা নিহত সাইফুল্লাহর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।







